পাইলস হলে কি খাব -পাইলস বা হেমোরয়েড একটি সাধারণ সমস্যা, যা মলদ্বারের শিরা ফুলে যাওয়ার কারণে হয়। এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় মলত্যাগের সময়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা, রক্তপাত, চুলকানি ও অস্বস্তি দেখা যায়। পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। কারণ ভুল খাবার পাইলস বাড়িয়ে দিতে পারে, আর সঠিক খাবার এটি কমাতে সাহায্য করে। এই প্রবন্ধে পাইলস হলে কী খাবেন এবং কী খাবেন না—তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।—পাইলস হলে কেন খাবারের দিকে নজর দিতে হয়?পাইলসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো কোষ্ঠকাঠিন্য।
যখন মল শক্ত হয়ে যায়, তখন মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দিতে হয়। এতে মলদ্বারের শিরায় চাপ পড়ে এবং পাইলস বাড়ে। তাই এমন খাবার খেতে হবে যা মলকে নরম রাখে এবং সহজে বের হতে সাহায্য করে।—পাইলস হলে যে খাবারগুলো খাওয়া উচিত১. আঁশযুক্ত খাবার (High Fiber Foods)আঁশ পাইলস রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপকারী।উদাহরণ:শাকসবজি (লাউ, পুঁইশাক, পালং শাক)ফল (পেঁপে, কলা, আপেল)ডাল (মসুর ডাল, ছোলা)গোটা শস্য (ওটস, লাল চাল)আঁশ মলকে নরম করে এবং সহজে বের হতে সাহায্য করে।
এতে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পাইলসের চাপও কমে।—২. ফলমূলফলমূল প্রাকৃতিক আঁশ ও ভিটামিনে ভরপুর।উপকারী ফল:পেঁপেকলাআপেলকমলাপেয়ারাএই ফলগুলো হজম শক্তি বাড়ায় এবং মলত্যাগ সহজ করে।—৩. সবজিসবজি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পাইলস রোগীদের জন্য অপরিহার্য।উপকারী সবজি:গাজরকরলালাউবাঁধাকপিশসাসবজি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।—৪. পানি ও তরল খাবারপাইলস হলে প্রচুর পানি পান করা খুব জরুরি।প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুনডাবের পানিলেবুর শরবতস্যুপপানি মলকে নরম রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।—৫. ইসবগুলের ভুষিইসবগুল একটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ।এটি মল নরম করেমলত্যাগ সহজ করেপাইলসের চাপ কমায়ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এটি খাওয়া উচিত।—৬. দইদই হজমের জন্য খুব ভালো।এটি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়হজম শক্তি উন্নত করেপাইলস রোগীদের জন্য দই খুব উপকারী।—৭. বাদাম ও বীজবাদাম ও বীজে প্রচুর আঁশ থাকে।উদাহরণ:কাজুবাদামচিয়া সিডতিলএগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে পাইলস কমাতে সাহায্য করে।—পাইলস হলে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত১. ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবারঅতিরিক্ত ঝাল খাবার মলদ্বারে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং পাইলস বাড়ায়।—২. ভাজাপোড়া ও ফাস্ট ফুডবার্গারপিজ্জাফ্রাইড ফুডএই খাবারগুলো হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।—৩. লাল মাংসঅতিরিক্ত মাংস খেলে হজমে সমস্যা হয় এবং মল শক্ত হয়ে যায়।—৪. কম পানি পানপানি কম খেলে মল শক্ত হয়ে যায়, যা পাইলস বাড়ায়।—৫. প্রসেসড খাবারচিপসপ্যাকেটজাত খাবারএগুলোতে আঁশ কম থাকে এবং পাইলসের জন্য ক্ষতিকর।—পাইলস রোগীর জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকাসকালে:গরম পানি + লেবুওটস বা লাল রুটিএকটি ফল (কলা/পেঁপে)দুপুরে:লাল ভাতসবজিডালসালাদবিকেলে:দই বা ফলরাতে:হালকা খাবার (সবজি, স্যুপ)—কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শপ্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খানবেশি দেরি করে খাবেন নাধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খানএকসাথে বেশি খাবেন না—উপসংহারপাইলস হলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল, সবজি এবং পর্যাপ্ত পানি পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ঝাল, ভাজাপোড়া ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।সঠিক খাবারের মাধ্যমে পাইলসের উপসর্গ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে যদি সমস্যা বেশি হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।


