রক্ত পড়া পাইলসের চিকিৎসা

রক্ত পড়া পাইলসের চিকিৎসা -রক্ত পড়া পাইলস বা ব্লিডিং হেমোরয়েড একটি সাধারণ কিন্তু উদ্বেগজনক সমস্যা। পাইলস হলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যায় এবং অনেক সময় মলত্যাগের সময় রক্তপাত হয়। এই রক্তপাত সাধারণত উজ্জ্বল লাল রঙের হয় এবং টয়লেট পেপার বা পায়খানার সাথে দেখা যায়। সঠিক চিকিৎসা না করলে সমস্যা গুরুতর হতে পারে।

তাই এই প্রবন্ধে রক্ত পড়া পাইলসের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।—রক্ত পড়া পাইলস কী?রক্ত পড়া পাইলস মূলত অভ্যন্তরীণ পাইলসের একটি সাধারণ লক্ষণ। মলদ্বারের ভেতরের শিরাগুলো যখন অতিরিক্ত চাপে ফুলে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সেখান থেকে রক্তপাত হয়। এটি ব্যথাহীনও হতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া থাকে।—রক্ত পড়ার প্রধান কারণরক্ত পড়া পাইলসের পেছনে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে:কোষ্ঠকাঠিন্য: শক্ত মল বের করার সময় অতিরিক্ত চাপ পড়েদীর্ঘ সময় বসে থাকাকম ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়াগর্ভাবস্থাঅতিরিক্ত ওজনভারী কাজ করা বা বেশি চাপ দেওয়া—লক্ষণসমূহরক্ত পড়া পাইলসের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারে চুলকানি বা জ্বালাপোড়ামলদ্বারে গাঁট বা ফুলে যাওয়াঅস্বস্তি বা ব্যথা (বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলসে)—রক্ত পড়া পাইলসের চিকিৎসা১. ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসারক্ত পড়া পাইলসের প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ খুব কার্যকর।(ক) ল্যাক্সেটিভ (মল নরম করার ওষুধ)ল্যাকটুলোজইসবগুলের ভুষিএগুলো মল নরম করে এবং রক্তপাত কমাতে সাহায্য করে।(খ) টপিক্যাল ক্রিম ও মলমহাইড্রোকর্টিসনলিডোকেইনএই ক্রিমগুলো প্রদাহ কমায় এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।(গ) ভেনোটনিক ওষুধডায়োস্মিনহেসপেরিডিনএগুলো শিরা শক্তিশালী করে এবং রক্তপাত কমায়।—২. ঘরোয়া চিকিৎসারক্ত পড়া পাইলসের ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি খুব উপকারী:(ক) সিটজ বাথ (গরম পানিতে বসা)প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট গরম পানিতে বসলে ব্যথা ও রক্তপাত কমে।(খ) ঠান্ডা সেঁকমলদ্বারে ঠান্ডা সেঁক দিলে ফোলা ও রক্তপাত কমে।(গ) অ্যালোভেরাঅ্যালোভেরা জেল লাগালে জ্বালা কমে এবং ক্ষত দ্রুত সারে।—৩. খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনখাবারের মাধ্যমে পাইলস নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার (সবজি, ফল, ডাল)প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পানঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাফাইবারযুক্ত খাবার মল নরম রাখে এবং রক্তপাত কমায়।—৪. জীবনযাত্রার পরিবর্তনদীর্ঘ সময় বসে না থাকানিয়মিত ব্যায়াম করামলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াটয়লেটে বেশি সময় না বসাএই অভ্যাসগুলো পাইলসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।—৫. চিকিৎসা পদ্ধতি (Procedures)যদি ওষুধে কাজ না হয়, তাহলে কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:(ক) রাবার ব্যান্ড লিগেশনপাইলসের গাঁটে রাবার ব্যান্ড লাগিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করা হয়, ফলে এটি শুকিয়ে যায়।(খ) ইনজেকশন থেরাপি (Sclerotherapy)বিশেষ ইনজেকশন দিয়ে পাইলস ছোট করা হয়।(গ) লেজার চিকিৎসালেজারের মাধ্যমে পাইলস অপসারণ করা হয়, যা তুলনামূলক কম ব্যথাদায়ক।(ঘ) অপারেশন (Hemorrhoidectomy)গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়।—কখন ডাক্তার দেখাবেন?রক্ত পড়া পাইলসকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত:অতিরিক্ত রক্তপাতমাথা ঘোরা বা দুর্বলতাদীর্ঘদিন ধরে রক্ত পড়াতীব্র ব্যথাকারণ, সব রক্তপাতই পাইলসের জন্য নাও হতে পারে—কখনো এটি অন্য গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।—প্রতিরোধের উপায়রক্ত পড়া পাইলস প্রতিরোধ করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার খাওয়াপর্যাপ্ত পানি পান করানিয়মিত ব্যায়াম করাকোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানোস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা—উপসংহাররক্ত পড়া পাইলস একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি অবহেলা করলে গুরুতর হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক ওষুধ, ঘরোয়া চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে যদি সমস্যা দীর্ঘদিন থাকে বা বেশি রক্তপাত হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।সুস্থ থাকতে হলে সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top