পাইলস কেন হয়

পাইলস কেন হয়পাইলস বা হেমোরয়েড একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি তখন হয় যখন মলদ্বার (anus) বা রেকটামের নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে যায় বা স্ফীত হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পাইলস সমস্যায় ভোগেন। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে পাইলস হয়ে থাকে।পাইলস হলে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, ব্যথা, চুলকানি এবং মলদ্বারের পাশে গুটি বা ফোলা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় মানুষ এই সমস্যা লুকিয়ে রাখেন এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, যার ফলে সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই পাইলস কেন হয় এবং এর কারণগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।—পাইলস কীপাইলস হলো মলদ্বারের শিরাগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার একটি অবস্থা। যখন এই শিরাগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে তখন এগুলো স্ফীত হয়ে যায় এবং পাইলস তৈরি হয়।পাইলস সাধারণত দুই ধরনের হয়।অভ্যন্তরীণ পাইলসএটি মলদ্বারের ভেতরে হয়। সাধারণত এতে ব্যথা কম হয়, কিন্তু মলত্যাগের সময় রক্তপাত হতে পারে।বাহ্যিক পাইলসএটি মলদ্বারের বাইরের অংশে হয়। এতে ব্যথা, ফোলা এবং চুলকানি বেশি অনুভূত হয়।—পাইলস কেন হয়পাইলস হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। নিচে প্রধান কারণগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।কোষ্ঠকাঠিন্যপাইলস হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য। যখন মল শক্ত হয়ে যায়, তখন মলত্যাগ করতে বেশি চাপ দিতে হয়।

এই চাপ মলদ্বারের শিরাগুলোর উপর প্রভাব ফেলে এবং ধীরে ধীরে পাইলস তৈরি করে।যারা কম পানি পান করেন এবং ফাইবারযুক্ত খাবার কম খান তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি দেখা যায়।—কম ফাইবারযুক্ত খাবারখাদ্যাভ্যাস পাইলস হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যারা নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল এবং আঁশযুক্ত খাবার খান না তাদের পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বেশি।ফাইবারযুক্ত খাবার মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। কিন্তু কম ফাইবার খেলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং মলত্যাগের সময় চাপ দিতে হয়।—দীর্ঘ সময় বসে থাকাঅনেক মানুষ কাজের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকেন। বিশেষ করে অফিসে কাজ করা মানুষদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মলদ্বারের শিরাগুলোর উপর চাপ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে পাইলসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।—বেশি সময় টয়লেটে বসে থাকাঅনেক মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে বা অন্য কারণে দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকেন। এতে মলদ্বারের শিরায় চাপ পড়ে এবং পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা উচিত নয়।—গর্ভাবস্থাগর্ভবতী নারীদের মধ্যে পাইলসের সমস্যা অনেক বেশি দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হয়ে পেটের ভেতরের শিরাগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করে।এছাড়া হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।—অতিরিক্ত ওজনঅতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পাইলস হওয়ার একটি বড় কারণ। বেশি ওজন হলে শরীরের নিচের অংশে চাপ বৃদ্ধি পায়, যা মলদ্বারের শিরাগুলোর উপর প্রভাব ফেলে।তাই সুস্থ থাকতে এবং পাইলসের ঝুঁকি কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।—ভারী জিনিস তোলাযারা নিয়মিত ভারী জিনিস তোলেন বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।ভারী জিনিস তোলার সময় পেটের ভেতরে চাপ বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাব মলদ্বারের শিরায় পড়ে।—বয়স বৃদ্ধিবয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের শিরাগুলো দুর্বল হয়ে যায়।

এর ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো সহজেই ফুলে যেতে পারে এবং পাইলস তৈরি হতে পারে।তাই বয়স্ক মানুষদের মধ্যে পাইলসের সমস্যা বেশি দেখা যায়।—কম শারীরিক পরিশ্রমযারা খুব কম নড়াচড়া করেন বা শারীরিক পরিশ্রম কম করেন তাদের হজমের সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়।এ কারণে পাইলস হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।—পাইলসের লক্ষণপাইলস হলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। যেমন:মলত্যাগের সময় রক্তপাতমলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালামলদ্বারের চারপাশে চুলকানিমলদ্বারের পাশে গুটি বা ফোলামলত্যাগের সময় অস্বস্তিএই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।—পাইলস প্রতিরোধের উপায়পাইলস প্রতিরোধ করতে কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করা দরকার।ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়াশাকসবজি, ফলমূল এবং গোটা শস্য বেশি খেলে হজম ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।পর্যাপ্ত পানি পান করাপ্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পান করলে মল নরম থাকে।নিয়মিত ব্যায়াম করাব্যায়াম হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।দীর্ঘ সময় বসে না থাকাপ্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বসে থাকা উচিত নয়।মল চেপে না রাখামলত্যাগের চাপ অনুভব করলে দেরি না করে টয়লেটে যাওয়া উচিত।—উপসংহারপাইলস একটি সাধারণ রোগ হলেও এটি অনেক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

মূলত কোষ্ঠকাঠিন্য, কম ফাইবারযুক্ত খাবার, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, গর্ভাবস্থা এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে পাইলস হয়।তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে পাইলসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যদি পাইলসের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাপনই পাইলস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top